জাবি প্রতিনিধি:
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির পোস্টারে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর বাধা প্রদানের প্রতিবাদে এ আয়োজন।
কোনো সংগঠনের ব্যানার ছাড়াই শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
কর্মসূচি নিয়ে জাবির শিক্ষার্থী সমা টুমপা (প্রত্নতত্ত্ব ৪৯ তম আবর্তন) বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা বিশেষ ব্যক্তি না হলেও একজন মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রে সবচেয়ে ভালোভাবে দাফন হওয়া তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। তাঁর ভাষ্য, আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জায়গায় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “সাক্ষী মারা যাওয়ার পরও যদি তাঁর দাফনে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ কেন সাক্ষ্য দিতে যাবে?” এতে সাধারণ মানুষের সাক্ষ্য দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমা টুমপা আরও বলেন, যে মুক্তিযুদ্ধের কারণে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা লজ্জাজনক। বাধাদানের ঘটনার কোনো বিচার তিনি দেখছেন না উল্লেখ করে বলেন, অন্য ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানের ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধী ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।”এটার দায় আসলে রাষ্ট্রকে নিতে হবে।” গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নিজেদের দাবি করলে প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন। গত শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, তিনি মারা যান এবং রোববার, ২৫ অক্টোবর তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সাঈদীর অনুসারীদের বাধার কারণে গার্ড অব অনার শেষে মধ্যরাতে তাঁর মেয়ে ও বোনদের খোঁড়া কবরে তাঁকে দাফন করতে হয়। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, দাফনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রীয় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।