নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মিথ্যা অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র এবং এক প্রতারক জমিদাতার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শামছুল হক। ২৮ লাখ টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করার পরও তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষরা মানববন্ধনসহ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, জমি জালিয়াতির মূল কারিগর মোজাম্মেল হকের প্রতারণা এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা নির্জলা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতোমধ্যে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের এক রেস্টুরেন্টের হল রুমে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্য শামছুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামছুল হক জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত কয়লা ও চুনাপাথর মজুত রাখার জন্য তিনি প্রথমে ঝিনাইদহের মোশারফ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতি সংলগ্ন মাঝেরকান্দা এলাকার কলাগাঁও মৌজায় অবস্থিত ৫৬ শতাংশ জমি ৭ বছরের জন্য ভাড়া নেন। তবে সেখানে পাথর রাখতে গেলে হায়দার সর্দার নামে এক ব্যক্তি বাধা দেন এবং জানান যে মোজাম্মেল হকের কাছে হায়দার সর্দার কয়লা বাবদ ৬ লক্ষ টাকা পান। পরবর্তীতে জমির মালিক মোজাম্মেল হকের পরামর্শেই হায়দার সর্দারের পাওনা টাকা পরিশোধ করে ঝামেলা মেটান শামছুল হক। পরবর্তীতে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কাছে ২৬ লক্ষ টাকা মুল্যে জায়গায়টা বিক্রি করেন মোজাম্মেল হক। এর কয়েকমাস পর জমিটি নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পমূলে কিনে নেন শামছুল হক। কিন্তু পরবর্তীতে জমিদাতা মোজাম্মেল হক অসাধু উদ্দেশ্যে ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একই জমির ওপর অসৎ উপায়ে কাগজ তৈরি করে নাজমুল হক নামের আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে জটিলতার সৃষ্টি করেন।
শামছুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ও নিজের রক্তঘামে অর্জিত ২৮ লাখ টাকা দিয়ে জমিটি স্ট্যাম্পমূলে লিখে নিয়েছি। কিন্তু মোজাম্মেল হক প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নাজমুল হকের কাছে আরেকটি কাগজ তৈরি করে দিয়ে আমার সাথে অযথা ঝামেলা তৈরি করছে। ২৮ লাখ টাকা দিয়ে জমিটি ক্রয় করার পরও গত ২০ অক্টোবর নাজমুল হক ও তার স্বজনরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মানববন্ধন করেছে। মূলত আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হব—এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই একটি মহল নাজমুলকে ঢাল বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির উদ্যোগে একাধিকবার সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ বিচারে শামছুল হক মেম্বারের সত্যতা ও প্রাপ্ত কাগজপত্রের বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সার্বিক কাগজপত্রের পর্যালোচনায় দেখা গেছে শামছুল হক মেম্বারের দাবি আইনি ও দাপ্তরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী ও এগিয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, একই জমি প্রতারণামূলকভাবে দুইজনের কাছে বিক্রি করায় নাজমুল হকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভেবে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে ১১ লাখ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার একটি রায় দিয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, নাজমুল হক সেই সালিসি রায় মানছেন না।”
প্রতারণা ও জমি সংক্রান্ত এই অনিয়মের বিচার চেয়ে শামছুল হক বাদী হয়ে মোজাম্মেল হক ও নাজমুল হককে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় আমদানিকারক ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই ব্যাপারে মোজাম্মেল হক ও নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, ২৮ লাখ টাকা দিয়ে সততার সাথে জমি ক্রয় করা সত্ত্বেও শামছুল হককে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এ জাতীয় ভিত্তিহীন মানববন্ধন ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।