আজ ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ ইং

জাবিতে ‘রইদ’ সিনেমার প্রদর্শনী

জাবি প্রতিনিধি

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধি চলচ্চিত্র ‘রইদ’-কে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘রইদের আন্ধার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ ও ৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে উৎসবটির আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যগোষ্ঠী বাংলা থিয়েটার ও কাব্যিক স্কুল অব আর্টসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’। দুই দিনে মিলনায়তনের এলইডি পর্দায় ছবিটির মোট চারটি প্রদর্শনী হয়। প্রতিদিন প্রথম প্রদর্শনী ছিল বিকেল ৩টা থেকে ৬টা এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে রাত ৯টা ৩০ পর্যন্ত। প্রতিটি শোর টিকিটের মূল্য ছিল ১৫০ টাকা, যা অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যেত।
প্রতিটি প্রদর্শনীর শুরুতে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পরিবেশনায় পুতুলনাট্য মঞ্চস্থ হয়। এ ছাড়া চলচ্চিত্রবিষয়ক সেমিনার এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী তারকা আড্ডার আয়োজন ছিল, যেখানে দর্শকেরা পরিচালক সুমনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে পরিচালক সুমনের পাশাপাশি ছবির চিত্রগ্রাহক জোহায়ের মুসাব্বিরও উপস্থিত ছিলেন।
উৎসব প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের আবহে। তালগাছ ও তালের পাতায় তৈরি প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ, সাদা থান শাড়িতে আঁকা চিত্রপট, পটচিত্র ও রিকশাচিত্র প্রদর্শিত হয়।
আয়োজকেরা জানান, ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ কাজ করেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ছবিটিকে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। ‘হাওয়া’র পর এটি সুমনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ছবির মূল দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তফা নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। ছবিটি ৫৫তম রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘টাইগার কম্পিটিশন’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছিল এবং এ বছর ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সাদু, তাঁর পাগল স্ত্রী ও বাড়ির পাশের তালগাছকে ঘিরে ছবির গল্প।
আয়োজনের নামকরণ প্রসঙ্গে বাংলা থিয়েটার ও কাব্যিক স্কুল অব আর্টসের সংগঠক মেহরাব হোসেন সিফাত বলেন, “ছবির নাম ‘রইদ’, অথচ পুরো ছবিজুড়ে মেঘ আর বর্ষা। রইদ আছে শুধু একটি দৃশ্যে। এই প্রতীকী বৈপরীত্য থেকেই আয়োজনের নাম ‘রইদের আন্ধার’। আলোর ভেতরে যেমন অন্ধকার থাকে, অন্ধকারের ভেতরেও তেমনি আলো খুঁজে পাওয়া যায়। ‘রইদ’-এর ভেতরের সেই আঁধারের জগৎ আমরা শিল্প-মনস্তত্ত্বের জায়গা থেকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই।”
বাংলা থিয়েটারের সভাপতি জেমিমা জেমিম রাইমা বলেন, “দৃশ্যে গাঁথি শিল্পের সুর, মুক্ত করি প্রাণ-এই থিম মাথায় রেখেই আমাদের এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন। মূলত মঞ্চ নাটক দিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু, তবে এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমকেও উদযাপন করতে চেয়েছি।”
এর আগে চলতি বছরের ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল একই মিলনায়তনে বাংলা থিয়েটারের উদ্যোগে ‘জাহাঙ্গীরনগর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদিকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। সিফাত জানান, ওই উৎসবে এসে সুমন আয়োজনের প্রশংসা করেছিলেন এবং তখনো মুক্তি না পাওয়া ‘রইদ’-এর গল্প আগাম শুনিয়েছিলেন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ