আজ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

অবৈধ দোকান ও অটোরিকশার দখলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক:  ভোগান্তিতে পথচারীরা

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম প্রাণকেন্দ্র সফিপুর এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন এবং লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন। তবে মহাসড়ক ও ফুটপাতজুড়ে অবৈধ দোকানের পশরা এবং থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে বর্তমানে তা সাধারণ পথচারীদের জন্য চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়ক ও সংলগ্ন ফুটপাত দখল করে তিন থেকে চার সারিতে কয়েক শত অবৈধ দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় অটোরিকশা, আর অন্য পাশে বাজার বসিয়েছেন হকাররা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২৮০ ফুট প্রশস্ত এই মহাসড়কের একটি বিশাল অংশ দখল হয়ে থাকায় কোনো কোনো স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র ১০ থেকে ২০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট থাকে। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে সারাদিন তীব্র যানজট লেগে থাকে এবং পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সংকটে শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকরা মহাসড়কের দু’পাশে ২০টিরও বেশি স্কুল-কলেজ এবং শতাধিক পোশাক কারখানা রয়েছে। ফুটপাত পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস কর্মীরা। সফিপুর মডেল স্কুলের এক দশম শ্রেণির ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। দোকানদারদের গায়ের সাথে ধাক্কা সহ্য করে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। বাস-ট্রাকের নিচে পড়ার ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়, যার কারণে প্রায়দিনই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরো দিনজুড়ে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা লেগে থাকলেও ট্রাফিক ও স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি না দেখার ভান করে থাকে।

মহাসড়কের এই চরম ভোগান্তি প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ফুটপাত দখলের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় মহাসড়ক হওয়ায় এখানে কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা বরদাশত করা হবে না। ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশের এসপি জানান, মহাসড়ক ও ফুটপাত থেকে সব ধরনের অবৈধ দোকানপাট ও থ্রি-হুইলার উচ্ছেদ করে সড়কটি দ্রুত সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে।

উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ না থেকে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথ উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই সাধারণ মানুষের এই নিত্যদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ