আজ ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

জাবি ভিসিকে নিয়ে বিতর্কিত বিবৃতি, দায় নিলেন না জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নামে প্রচারিত একটি বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন সংগঠনটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর সম্মতি ও অনুমোদন ছাড়াই সভাপতি হিসেবে তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিবৃতিটি প্রচার করা হয়েছে।

রোববার রাতে দেওয়া এক ‘প্রত্যাখ্যান বিবৃতিতে’ অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি বিবৃতি তাঁর নজরে এসেছে। ওই বিবৃতিতে সভাপতি হিসেবে তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তা তাঁর সম্মতি ও অনুমোদন ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রচার করা হবে।

একই সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যটিকে ফোরামের অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে রোববার সকালে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নামে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি ওই টকশোতে জাবি উপাচার্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে এক আলোচক ‘গুপ্ত রাজনীতির’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে কথা বললেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ে কথা বলবে না। তাঁর দাবি, যদিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিএনপি দলীয় কিন্তু তাঁকে নিয়ে কোনো সমালোচনামূলক লেখা প্রকাশ হলে ‘শিবিরের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে’।

এ ছাড়া আলোচনায় আরেকজন আলোচক অধ্যাপক কামরুল আহসানকে ‘সাদা দলের’ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নামে সকালে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ নামে কোনো শিক্ষক সংগঠন নেই। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম (NTF)’-এর কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই বিবৃতিতে অধ্যাপক কামরুল আহসানকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ফোরামের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ২০০৫ ও ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ