পলি আক্তার, জবি প্রতিনিধি:
(জবি)জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন ও বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক সেশন, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং দিনব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের মেন্টর ড. মোঃ আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন ও বাঁধনকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে কিছু কাজ মানুষের মনে স্বস্তি ও তৃপ্তি এনে দেয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহের মতো মানবিক কার্যক্রম তেমনই একটি মহৎ কাজ। যারা নিঃস্বার্থভাবে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তারা সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।”
তিনি আরও বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য অনেক মানুষের প্রয়োজন হয় না; কার্যকর ও দায়িত্বশীল অল্পসংখ্যক মানুষও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তাই এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলোকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের পেছনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তি ও সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।”
উপাচার্য জানান, অচিরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে, যারা দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি এ স্বেচ্ছাসেবকদের জাতীয় পর্যায়ে কীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। তবে বাঁধন, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের মতো সমাজের প্রতি কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ধরনের সংগঠনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। এ সময় তিনি আয়োজিত কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান আলোচক ড. মল্লিকা রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাবিলা হাসান এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি পিউস সাহা।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক সেশন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচজন বিজয়ীকে বিশেষ পুরস্কার ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচিতে বিনামূল্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংক্রামক ব্যাধির পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ছিল হেপাটাইটিস-বি, অ্যান্টি-এইচবিসিএবি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া। রক্তদাতাদের পরীক্ষার রিপোর্টের পাশাপাশি পুষ্টিকর স্ন্যাকস এবং বিটিএফ কো-ব্র্যান্ডেড পানির বোতল প্রদান করা হয়।
এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ রক্তদানের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। এর মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।