নিজস্ব প্রতিবেদক
একা থাকা আর নিঃসঙ্গ হওয়া এক কথা নয়। জীবনের কোলাহল থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে এনে একা বসার মুহূর্তগুলো হলো নিজের ভেতরের মানুষের সাথে মুখোমুখি কথোপকথনের সময়। চারপাশে যখন প্রতিদিন হাজারো মানুষের নানা ধরনের প্রত্যাশা, উপদেশ আর মতামত আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন কোনটা নিজের আসল সত্তা আর কোনটা অন্যের প্রত্যাশার ছায়া—তা গুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই নিজের জীবনের গল্পটাকে নতুন করে পড়তে ও বুঝতে নির্জনতার ভীষণ প্রয়োজন।
আমরা সব সময় অন্যের তৈরি করা ট্র্যাকে দৌড়াতে ব্যস্ত থাকি। ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আর সাফল্যের নানা সংজ্ঞা প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়া করে ফেরে। কিন্তু এই নিরবচ্ছিন্ন দৌড়ের ভিড়ে নিজের সত্যিকারের ইচ্ছা, ভালো লাগা কিংবা জমে থাকা ক্লান্তিগুলোকে শোনার সময় কোথায়? যখন সব কোলাহল থমকে যায় এবং মানুষ নিজের মুখোমুখি বসে, তখনই জানা যায় জীবনের কতটা পথ সে মনের ইচ্ছায় পার হয়েছে আর কতটা এসেছে নেহাত বাধ্য হয়ে।
নিজের ভুলগুলো স্বীকার করার জন্যও আত্মবীক্ষণের দরকার। লোকচক্ষুর আড়ালে নিজের কাছে মিথ্যা বলার কোনো সুযোগ নেই। সেখানে ব্যর্থতাগুলোকে যেমন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তেমনি ফুটে ওঠে ছোট ছোট প্রাপ্তির গল্পগুলোও। নিজের জীবন নিয়ে অভিযোগ না করে, প্রতিচ্ছবিটা ঠিক কেমন তা বুঝতে পারাটাই পরিপক্কতা।
কাউকে পথ দেখানোর আগে নিজের গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। আর সেই স্পষ্টতা আসে নিস্তব্ধতার মধ্যে। একা বসে গল্পটা আবার নতুন করে পড়ে নেওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়; বরং পরবর্তী অধ্যায়ে আরও দৃঢ় ও পরিণতভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া।
-ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান