আজ ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

জাকসুর সফল ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মাঠগুলোতে খেলা থাকত, খেলোয়াড়ও থাকতেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি, আধুনিক সরঞ্জাম কিংবা একাডেমিক সুবিধার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। ক্রীড়াঙ্গনের সেই পুরোনো বাস্তবতায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জাকসু নির্বাচনে ইশতেহার দিয়েছিলেন ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী মাহমুদুল হাসান কিরণ।
নির্বাচনের পর দায়িত্ব নিয়ে শুধু ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ক্রীড়া বাজেট বৃদ্ধি, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা, আধুনিক ক্রীড়া সরঞ্জাম, ই-স্পোর্টস, রানিং ও ফিটনেস কার্যক্রম—বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যস্ত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গন।
তবে সব প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। কোনোটি একাডেমিক কাউন্সিল পেরিয়ে সিন্ডিকেটের অপেক্ষায়, কোনোটি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের অপেক্ষায়, আবার অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকের মতো কিছু উদ্যোগ আটকে আছে প্রশাসনিক জটিলতায়।
কিরণের নিজের মূল্যায়ন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ তিনি সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে কিরণের সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ক্রীড়া বাজেটে।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ৩২ লাখ টাকা।
শুধু বাজেট বৃদ্ধিই নয়, সেই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্রীড়া খাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনেও জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃহল ব্যাডমিন্টন, আন্তঃঅনুষদ নারী হ্যান্ডবল, নারী ক্রিকেট, পুরুষ ভলিবলসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তিন বছর পর ফিরেছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া:
কিরণের দায়িত্বকালে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি হলো তিন বছর বন্ধ থাকার পর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো আন্তঃঅনুষদ নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। BKSP-এর সঙ্গে তিন দিনের ক্রিকেট সিরিজ, আন্তঃবিভাগ ক্রিকেটে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ চালু এবং বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনকে ক্যাম্পাসের বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে আসার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

জাবির ক্রীড়া ইতিহাসে দীর্ঘ বিরতির পর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও কিরণের সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
জাকসু ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতায় ৩৩ বছর পর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর বাইরে জুন-জুলাই মাসজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্য মুক্তমঞ্চ, সেন্ট্রাল ফিল্ড, জাকসু কার্যালয়ের সামনে, বটতলা ও রবীন্দ্রনাথ হলের মাঠে ফুটবল খেলা বড় পরিসরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হলো?
ক্রীড়া ইশতেহারে ছিল ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পথে এবং কিছু এখনো আটকে আছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বৈধ কারণে ক্লাস, অ্যাটেনডেন্স ও টিউটোরিয়াল মিস হলে তা পূরণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদিত হয়েছে। এখন সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর তা কার্যকর হবে।
খেলোয়াড়দের চিকিৎসার জন্য ইনজুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। তবে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি সেবা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। দুটি পদে নিয়োগ হলে এই সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে।
‘Jahangirnagar Sports Blue’ চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আধুনিক মাঠের জন্য দুটি ঘাস কাটার মেশিন আসছে। সেন্ট্রাল ফিল্ড ও জিমনেশিয়ামে ফিল্টার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
‘Sports Science’ বিভাগ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ইউজিসিতে। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ ক্রীড়াবিদদের জন্য দল গঠনের লক্ষ্যে প্যারালিম্পিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ চলছে।

তবে ক্রীড়া ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে Sports Scholarship এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। কিরণের ভাষ্য, বাজেট-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।
মাঠে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরির কাজও এখনো হয়নি। রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হলে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের পৃথক ড্রেসিং রুম নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে কাজটি এগোবে বলে জানান কিরণ।
আরও বড় চ্যালেঞ্জ অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক নির্মাণ। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রয়োজনীয় জায়গা হস্তান্তরসহ প্রশাসনিক জটিলতায় উদ্যোগটি এগোয়নি।
খেলোয়াড়দের জন্য পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ও স্পোর্টস ফিজিও টিমও এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পায়নি।

মাঠের বাইরেও ক্রীড়া সংস্কৃতির বিস্তার:
কিরণের উদ্যোগের একটি বড় অংশ ছিল প্রতিযোগিতার বাইরেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করা।
‘Run With Kiron’ প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে দুই দিন সকালে ছেলেদের Fitness ও Conditioning Training এবং মেয়েদের Yoga ও Meditation-এর আয়োজন করা হয়।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ম্যারাথন আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের BKSP-তে নিয়ে গিয়ে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে দৌড় ও সাঁতারের সুযোগ দেওয়া হয়।
বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৫০০টি জার্সি বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া ‘জাকসু রান—মে দিবস’, ‘জাকসু রান—৩৬ জুলাই’ ও ‘জাকসু রান—ফেয়ারওয়েল’-এর মতো আয়োজনও করা হয়েছে।

নতুন জায়গায় ই-স্পোর্টস:
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমকে শুধু প্রচলিত মাঠের খেলায় আটকে না রেখে ই-স্পোর্টসেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য একটি ক্লাব গঠন করা হয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে কয়েকটি LAN Tournament ও E-Football Tournament।
কিরণের দাবি, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন ধরনের প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীর চোখে কিরণ:
ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে কিরণের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের মতে, তাঁর সময়ে ক্রীড়া আয়োজনের পরিমাণ বেড়েছে এবং খেলাধুলা আবার ক্যাম্পাসের নিয়মিত আলোচনায় এসেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশী বলেন,
“আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা হতো, কিন্তু অনেক সময় সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে আয়োজিত হতো। কিরণ ভাই দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট, রানিং প্রোগ্রাম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য আলাদা ক্রীড়া আয়োজন এবং আন্তঃঅনুষদ প্রতিযোগিতা হওয়াটা বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। সব প্রতিশ্রুতি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, কিন্তু তিনি যে আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন, সেটা মাঠের কার্যক্রম দেখলেই বোঝা যায়।”

কিরণের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবিদ বলেন,
“কিরণ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, তিনি শুধু পদে বসে দায়িত্ব পালন করেননি, মাঠে থেকেছেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো বুঝতে পারেন। বাজেট বাড়ানো থেকে শুরু করে নিয়মিত টুর্নামেন্ট, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনা—এসবের কারণে ক্রীড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে, যদি তিনি যে উদ্যোগগুলো শুরু করেছেন সেগুলো স্থায়ীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যেতে পারেন। কারণ একজন সম্পাদক চলে যাবেন, কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনের সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন থেকে যায় এটাই আমরা চাই।”

আরেক শিক্ষার্থী নীলিমা জানান,
আমি বলবো জাকসুর সফল ক্রীড়া সম্পাদক কিরণ ভাই। কিরণ ভাই নিজে একজন খেলোয়াড় হওয়ায় খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো তিনি কাছ থেকে বোঝেন। ইনজুরি ফান্ড, ফিজিও সুবিধা, একাডেমিক সুবিধা এবং বাজেট বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছেন। সবকিছু এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে অন্তত বিষয়গুলো সামনে এসেছে এবং অনেকগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা চাই, তাঁর শুরু করা বাকি কাজগুলোও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হোক।”

‘নিজেকে কখনো পারফেক্ট বলব না’:
নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাফল্যের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন কিরণ।
জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে তাঁর যাত্রার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমার এই যাত্রা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এত মানুষের আস্থার ভোটের আমানত আমাকে চিন্তা ও অস্থিরতার মধ্যে রাখত। যদি কোনো কাজ না করতে পারি, কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারি—এসব নিয়ে সবসময় ভাবতাম। তবে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাঁদের সহযোগিতার কারণেই অনেক কাজ সম্ভব হয়েছে। আমাদের স্পোর্টস ক্লাব কমিউনিটির সবাইও সহযোগিতা করেছে।”
ক্রীড়া খাতে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“ক্রীড়া সেক্টরে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। সব জায়গায় নক করলেও নিজেকে কখনো পারফেক্ট বলব না। তবে প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি।”

কিরণের সময়ে জাবির ক্রীড়াঙ্গনে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাজেট বেড়েছে, প্রতিযোগিতা বেড়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কিছু কার্যক্রম ফিরেছে, নারী খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং ই-স্পোর্টসের মতো নতুন ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে একজন ক্রীড়া সম্পাদকের সাফল্য শুধু কতগুলো টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না। একজন খেলোয়াড় যেন চোট পেলে চিকিৎসা পান, জাতীয় পর্যায়ে খেলতে গিয়ে ক্লাস মিস করলে একাডেমিক ক্ষতির মুখে না পড়েন, আধুনিক মাঠ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পান—সেই স্থায়ী কাঠামো তৈরি করাই বড় পরীক্ষা।
কিরণের ইশতেহারের বেশ কিছু উদ্যোগ সেই কাঠামো তৈরির পথে এগিয়েছে। আবার কিছু উদ্যোগ এখনো প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজেট কিংবা অবকাঠামোগত জটিলতায় আটকে।
তাই কিরণের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হয়তো তাঁর নিজের দাবি করা ‘৭০ শতাংশ বাস্তবায়ন’ নয়; বরং তাঁর মেয়াদ শেষে জাহাঙ্গীরনগরের খেলোয়াড়েরা কতটা স্থায়ী সুযোগ, অবকাঠামো ও নিরাপদ ক্রীড়া পরিবেশ পেলেন—সেটিই হবে তাঁর কাজের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়ন।

মাহমুদুল হাসান কিরণ: মাঠ থেকে জাকসুর মঞ্চে:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নির্বাচিত ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলেছেন। জাকসু নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৮ ভোট, যা নির্বাচনে যেকোনো পদে সর্বোচ্চ ভোট।
জাবির বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কিরণ আ ফ ম কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ক্লাব পর্যায়ে তিনি বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলেছেন। নতুন মৌসুমে তিনি রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির হয়ে খেলবেন।
বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে খেলার সুযোগও পেয়েছিলেন।
একজন খেলোয়াড় যখন ক্রীড়া প্রশাসনের দায়িত্ব নেন, তখন তাঁর কাছে প্রত্যাশাটাও একটু বেশি থাকে। মাহমুদুল হাসান কিরণের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। সেই প্রত্যাশার কতটা পূরণ হয়েছে, তার হিসাব এখনো চলমান। তবে তাঁর সময়ে জাবির ক্রীড়াঙ্গনে যে নতুন গতি তৈরি হয়েছে, সেটিই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ