আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ পদে জাবির ১০ শিক্ষার্থী মনোনীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের (৪৫ ব্যাচ) পলাশ সরকার, হাসেল শেখ, মাহমুদ আফনান, তুহিন আক্তার তুলি ও লাইবা তাসনিয়া, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের (৪৬ ব্যাচ) মাহবুব সাঈদী, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭ ব্যাচ) আশরাফুন্নাহার রুপালী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (৪৮ ব্যাচ) তারিকুল ইসলাম ও সাবিকুন নাহার এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৪৯ ব্যাচ) আফিয়া জামান।

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অনুভূতি প্রকাশ করে আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আইন বিভাগের অবস্থান ও অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রতিনিয়ত সাফল্য অর্জন করছে, তাতে আমরা ভীষণ আনন্দিত। আমাদের শিক্ষার্থী কম হওয়া সত্ত্বেও সহকারী জজ পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে তাদের এই সফলতা বজায় রয়েছে। এ পর্যন্ত আমাদের বিভাগ থেকে অর্ধশত শিক্ষার্থী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অবহেলিত একটি বিভাগ হলো এই আইন বিভাগ। এতো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত বিভাগটি তার উপযুক্ত জায়গা পায়নি। ফ্যাকাল্টির নিজস্ব কোনো অফিস নেই, শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো মুট কোর্ট কিংবা সেমিনার লাইব্রেরি। এমনকি পুরো বিভাগে মাত্র ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। বর্তমানে কাজের সূত্রে আমি হংকংয়ে অবস্থান করছি। আল্লাহ চাইলে আগামী মাসের শুরুতেই দেশে ফিরব।’

তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি যদি দেশে থেকে এই কথাগুলো বলতাম, তবে হয়তো অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তাম। কারণ, এতো সীমাবদ্ধতা ও অপ্রতুল সম্পদের মধ্যেও আমাদের ছেলেমেয়েরা যেভাবে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে, তা দেখে তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। শিক্ষক হিসেবে তাদের জন্য কিছু করতে না পারার একটি লজ্জা ও অনুশোচনা কাজ করে। বিভাগ হিসেবে আমাদের হাতে বিশেষ কিছু করার সুযোগ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সুযোগ-সুবিধা ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপরই নির্ভর করে। অথচ যেখানে অন্যান্য ফ্যাকাল্টির জন্য একাধিক ভবন বরাদ্দ রয়েছে সেখানে আমাদের জন্য আজও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ