মোঃ হৃদয় হোসেন রায়পুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগ উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী যুবককে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি ‘মব’ বা উশৃঙ্খল জনতা সৃষ্টি করে ভিডিও ধারণ ও তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত পক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাপ্ত তথ্য ও সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই (শনিবার) ফজরের আজানের পর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার পশ্চিম চরপাতা গ্রামের ইমাম উদ্দিন পাটোয়ারী বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে তারেক আজিজ নিজ ঘরেই অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তার বন্ধু স্বপন মজুমদার তাকে ফোন করে জানান যে, স্থানীয় লকিত উল্যা ঢালীর নতুন বাড়ি থেকে পুরুষ মানুষের কণ্ঠ বা সন্দেহভাজন কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
বন্ধুর ফোন পেয়ে তারেক আজিজ তন্দ্রা ঘুম থেকে উঠে শোয়ার যে পোশাক ছিলো ঐ পোশাক গায়ে থাকা অবস্থায় দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে সেখানে পৌঁছানো মাত্রই কোনো কিছু বোঝার আগেই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে তারেক ও স্বপনকে হেনস্তা করতে শুরু করে। একই সাথে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি মোবাইল ফোনে এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তা ‘পরকীয়া’র নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী তারেক আজিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং একটি পরিকল্পিত মব-এর শিকার। সমাজে আমার ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে একটি কুচক্রী মহল এই অপকর্মটি করেছে। আমি এই মিথ্যা অপপ্রচার ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
যে পক্ষের সাথে জড়িয়ে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে, সেই অভিযুক্ত পক্ষের সদস্য সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন:”তারেকের সাথে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল মাত্র, যা সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি ইতিমধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সংশোধন করে নিয়েছি। কিন্তু একটি তৃতীয় পক্ষ এই সাধারণ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা সংবাদ ও ভিডিও ছড়াচ্ছে। যারা আমাদের জড়িয়ে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ভুক্তভোগীর বন্ধু ও প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন মজুমদার বলেন, “আমরা মূলত পরিস্থিতি দেখতে ও জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সামান্য ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ মব তৈরি করে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্তা করে। এখন তৃতীয় একটি পক্ষ সেই ভিডিও ব্যবহার করে আমাদের মানহানি করে যাচ্ছে।”
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি (সাবেক মেম্বার) সংবাদ সম্মেলনে জানান, “খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসে জানতে পারি যে, পুরো বিষয়টিই একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি হয়েছিল। তখন আমি উভয় পক্ষকে শান্ত করি এবং বিষয়টি সমাধান করি। এখন এটি নিয়ে ফেসবুকে নোংরামি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
৯৯৯ এ কলের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসার জন্য স্থানীয় সাবেক মেম্বার জয়নাল আবদীনকে দায়িত্ব প্রদান করেন, জয়নাল মেম্বার উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মর্মে পুলিশকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী তারেক আজিজের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, তারেক অত্যন্ত ভালো ও ভদ্র ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাকে সামাজিকভাবে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, সত্যি অত্যন্ত নিন্দনীয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইসিটি আইনে শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।