আজ ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

মানুষের ভ্রূণ দিয়ে স্যুপ! চীনের ‘রহস্যঘেরা’ খাবারের পেছনের আসল গল্প কী?

প্রিন্স ঘোষ

অবশ্যই—শুধু স্পেস, বানান ও যতিচিহ্ন ঠিক করেছি। বক্তব্য বা লেখার ধরন পরিবর্তন করিনি।

২০২৯ সালের মার্চ মাস। ঠিক আমার জন্মদিনের দিন চীনে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। চীনে আসার পরেই চীনের সংস্কৃতি, সেখানকার মানুষ, চীনা ভাষা আমাকে অবাক করতে শুরু করে। সবচেয়ে বেশি অবাক হই তাদের খাদ্যাভ্যাস দেখে। সবচেয়ে অবাক হই যখন প্রথম শুনি, চীনের কোনো এক শহরের কোনো এক রেস্তোরাঁয় বিক্রি হয় এক অদ্ভুত খাবার—মানুষের ভ্রূণ দিয়ে তৈরি করা স্যুপ! অনেক বাঙালি বন্ধুদের থেকে জানতে পারি, চীনের গুয়াংডং প্রদেশসহ বেশ কিছু জায়গায় আছে এমন শহর।

ছুটিতে দেশে আসলে এই গল্প আমিও করেছি আমার পরিচিত মহলের অনেকের কাছে। তবে এই গল্পের পেছনের ঘটনা জানার আগ্রহ কখনো জাগেনি। জানা হয়নি এর সত্যতাও। তবে আসলেই কি এমন অদ্ভুত খাবার খায় চীনারা?

আসুন, আজ না হয় সেই গল্পই বলি।

মূলত ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে এ ধরনের ছবি ও গল্প বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন ফোরামে ছড়াতে শুরু করে। ‘ফিটাস স্যুপ’ বা ‘ভ্রূণ স্যুপ’ নামের এই প্রচলিত গল্পটির পেছনে অনেকাংশেই কাজ করেছে চীনের কিছু বিতর্কিত খাদ্যসংস্কৃতি ও লোকজ চিকিৎসা।

ইন্টারনেটে প্রচারিত কিছু ছবিতে দেখা যায়, একটি পাত্রে ভ্রূণের মতো দেখতে বস্তু রাখা রয়েছে, যা কোথাও চীনের রেস্তোরাঁ, কোথাও ধনী ব্যক্তিদের ‘বিশেষ খাবার’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

তবে ছবির সঙ্গে থাকা দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা অনেক ক্ষেত্রেই বেশ কঠিন। একই ছবি ভিন্ন ভিন্ন গল্পের সঙ্গে বহু বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেটে।

তাহলে কি চীনে ভ্রূণ খাওয়া হয়, নাকি পুরোটিই গুজব?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চীনে বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত খাবারের প্রচলন আছে। বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খাওয়ার রেওয়াজও আছে। তবে তা পুরো চীনের মানুষের ক্ষেত্রে এক নয়। আবার মানুষের ভ্রূণের স্যুপ বা ভ্রূণ খাওয়ার বিষয়টিরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায় না।

তাহলে ‘ভ্রূণ স্যুপ’ কি পুরোপুরি বানানো?

এর উত্তর খুব সহজে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবদেহের অংশ নিয়ে বিচ্ছিন্ন, অবৈধ বা অস্বাভাবিক ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। তাই এমন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কখনো ঘটেনি, এমন বলাও যুক্তিসঙ্গত নয়। তবে ‘চীনারা মানুষের ভ্রূণ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খায়’—এটিকে চীনের প্রচলিত খাবার বা সাধারণ খাদ্যসংস্কৃতি হিসেবে উপস্থাপন করার মতো কোনো প্রমাণও পাওয়া যায় না।

তাই বলাই চলে, বিষয়টির পেছনে দায়ী ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া গুজব, মানুষের ভুল ধারণা, সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে বিশ্বাস করা এবং চীনের অদ্ভুত সব খাদ্যাভ্যাস।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ