আজ ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

তাহিরপুরে মহিলা সমিতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতাহাতি

আবু জাহান তালুকদার, তাহিরপুরঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে মহিলা সমিতির অনুদান ও ঋণের টাকা ভাগাভাগি কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাহিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। পরে আহত অবস্থায় কর্মকর্তা আফজাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতিকে ২২ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলতে বীরনগর গ্রামে যান কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। সেখানে অনুদানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সদস্যদের সাথে তাঁর মতবিরোধ হয়। পরবর্তীতে তিনি কার্যালয়ে ফিরে এ বিষয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের কাছে জবাবদিহিতা চাইলে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের অভিযোগ, গত কয়েক মাস আগে ২১ জন নারীকে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম প্রতারণা করে ওই নারীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে মোট ২১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি সাইফুল নিজের বোনের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পারেন। অফিসে এসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল তাঁর ওপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া সাইফুল নিয়মিত অফিসে আসেন না এবং স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের বিনিময়ে ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “সমিতির চেক প্রদান বা টাকা তোলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কর্মকর্তা নিজেই বীরনগর গ্রামে গিয়ে সমিতির সদস্যেদের সাথে বিরোধে জড়ান। অফিসে এসে আমি কেবল বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন। তাঁকে ফেরাতে গেলে তিনি টেবিলের ওপর পড়ে গিয়ে আঘাত পান। আমি কাউকে মারধর করিনি, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

ঘটনার পর মুখ খুলেছেন উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহিমা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক করবুল নেছা। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন নিজে তাঁদের গ্রামে গিয়ে অনুদানের টাকার ভাগ চান। তাঁদের দাবি—সমিতির টাকা তোলার পর তিন ভাগে ভাগ করার নিয়ম তৈরি করা হয়েছে; যার এক ভাগ সভাপতি, এক ভাগ সম্পাদক এবং অপর ভাগটি কর্মকর্তার দপ্তরের জন্য। তবে তাঁরা কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে সমান ভাগ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রাম থেকে চলে আসেন।

সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এজেএম রেজাউল আলম জানান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন এবং অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম—উভয়ের বিরুদ্ধেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে অফিস সহকারীকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মতামত দেন।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী জানান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ