আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

বন্ধ নতুন সাউন্ড সিস্টেম – ভাড়ার সিন্ডিকেটে চলছে জবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম

পলি আক্তার, জবি প্রতিনিধি:

(জবি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নতুন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। সাউন্ড সিস্টেমটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বাইরে থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া নিতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ আয়োজকদের।

জানা যায় যে, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সহযোগিতায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সংস্কার কাজ করা হয়। সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অডিটোরিয়ামে উন্নতমানের নতুন সাউন্ড সিস্টেমও স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পরও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না।”

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী অডিটোরিয়ামের সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, “অডিটোরিয়ামে নিজস্ব নতুন সাউন্ড সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও ছোটখাটো সেমিনার ও অফিসিয়াল অনুষ্ঠানেও বাইরে থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করতে হচ্ছে। দুই থেকে তিন ঘণ্টার একটি অনুষ্ঠানের জন্যও প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া বাবদ ব্যয় হচ্ছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেমটি সচল করা গেলে নিয়মিত এসব অতিরিক্ত ব্যয় কমানো সম্ভব।”

এ বিষয়ে, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অপারেটর শেকড় আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “নতুন সাউন্ড সিস্টেম চালু করতে হলে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। নীতিমালা ছাড়া এটি চালু করা হলে অব্যবস্থাপনায় সাউন্ড সিস্টেম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবং অডিটোরিয়ামের প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় পডিয়াম মাইক্রোফোনও তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ওই মাইক্রোফোন ছাড়া পূর্ণাঙ্গভাবে অফিসিয়াল প্রোগ্রাম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

আবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, “নতুন সাউন্ড সিস্টেমটি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়েছে। তবে এটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেজারার ম্যাম সিস্টেমটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। তবে অনুমতি পেলে আজকেই সাউন্ড সিস্টেমটি চালু করা সম্ভব।

তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেন, “আমি জানতাম নতুন সাউন্ড সিস্টেমটি চালু রয়েছে এবং সেটি দিয়েই অডিটোরিয়ামের সব অনুষ্ঠানে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমি এখন অবগত হয়েছি। দায়িত্বরত স্টাফদের জানিয়ে দিচ্ছি, যেন দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে চালু করা যায়।”

এ ছাড়া জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রিপন সাউন্ড এককভাবে অডিটোরিয়ামের সকল প্রোগ্রামের সাউন্ড সিস্টেমের সেবা দিয়ে থাকে। এ জন্য প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। বড় ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলে এই খরচ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নতুন সাউন্ড সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও কেন তা ব্যবহার না করে নিয়মিত বাইরে থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করা হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অডিটোরিয়ামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একই প্রতিষ্ঠানকে সাউন্ড সিস্টেমের সেবা দিতে দেখা যাচ্ছে। ফলে নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার না করে বাইরে থেকে ভাড়া নেওয়ার পেছনে কোনো পক্ষের আর্থিক সুবিধা বা কোন স্বার্থ জড়িত আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, “অর্থ সাশ্রয়ের স্বার্থে নতুন সাউন্ড সিস্টেমটি দ্রুত সচল করে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি কেন এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং নিয়মিত বাইরে থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না—তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা প্রয়োজন।”

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও সংবাদ